এক্সিডেন্টাল লাভ
______লেখক: আহমেদ আল আমীন
______লেখক: আহমেদ আল আমীন
সেখানে কিছু দেখতে না পেয়ে সে বাইকে গিয়ে বসলো। তখন সে বুঝতে পারলো কেউ তাকে সম্মোধন করে বলছে,
ভাইয়া আপনি আসবেন আমি জানতাম!
ভাইয়া আপনি আসবেন আমি জানতাম!
রাফি একটু চমকে গিয়ে পিছন দিকে তাকালো,,
জিজ্ঞেস করে,,,
আপনি আমাকে কিছু বলছেন?
জিজ্ঞেস করে,,,
আপনি আমাকে কিছু বলছেন?
জ্বি আপনাকেই!
জ্বি বলুন কি বলছিলেন, রাফি বললো!
তখন অপরিচিত ছেলেটি বললো, আমি সকালে পুরো ঘটনাটি দেখেছিলাম। আসলে আপনি অনেক লাকি এক্সিডেন্ট থেকেও বেঁচে গেলেন আর……
রাফি সাথে সাথে বলে উঠলো, আর……
কিছু না বলে এড়িয়ে গেলো অপরিচিত ছেলেটি!
রাফি জিজ্ঞেস করলো ঠিক কি দেখেছেন, তখন রাফির পুরো ঘটনার বর্ণনা করলো ছেলেটি!
রাফি বুঝতে পারলো মেয়েটি কেন চিৎকার করে ছিলো, এখন রাফির মনে পড়লো তার বাইকের সাথে মেয়েটির ছোট্ট মুট্ট একটা ধাক্কা লেগে ছিলো। কিন্তু সে তো তাকে সরি বলেনি!
হয়তো সরি শোনার জন্য মেয়েটা এমন ভাবে তাকিয়ে ছিলো,ভাবতে ভাবতে অপরিচিত ছেলেটির থেকে বিদায় হলো রাফি।
বাসায় ঢুকেই ওয়াশরুমে গিয়ে গোসল সেরে নিলো, কলেজ শেষ করে গোসল করাটা যেহেতু তার দৈনিক রুটিন। এবার এসে খাবার টেবিলে বসলো, ক্লান্ত শরীরে যতটুকু সম্ভব খেয়ে উঠলো। না হলে তো মিসেস রেহানের বকুনি ফ্রী!
এবার রুমে ঢুকে কম্পিউটারের টেবিলে বসে কম্পিউটার অন করে একটি গান ছেড়ে শুয়ে পড়লো, গানের সুরের সাথে তার ঘুমও যেন গভীর হতে থাকে।
মুনও স্কুল থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে টিভির সামনে বসা, বাকিরাও যার যার কাজে!
এর ছয়দিন পর রাফি দ্বিতীয় বারের মতো দেখতে পেলো ঐ মেয়েটি কে, আজকের যায়গাটাও বাইপাস রোড। তবে আজ গায়ে স্কুল ড্রেস থাকায় রাফির তাকে চিনতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। রাফির বাইকটা স্লো হলে দুজনেই দেখে নেয় দুজনকে।
এরপর প্রতিদিনই প্রায় একই ঘটনা ঘটতে থাকে, ওই মেয়েটার স্কুলও বাইপাসের পাশে।
ইদানীং দেখার সাথে হাসিটাও যোগ হয়েছে, যা রাফিকে অনেক ভাবায়। রাফি প্রায়ই বুঝতে চেষ্টা করে এই হাসির কারণ কি!
এখন তাকে দেখলে রাফির চোখ থেকে সানগ্লাসটি সরে যায়, রাফি জানে মাত্র কয়েক মূহুর্ত তারা দুজন দুজনকে দেখতে পারে তাই সানগ্লাসের আপত্তিকর বাধাটা তার পছন্দ না!
প্রায় সপ্তাহ চলে যাচ্ছে রাফি ওই মেয়েটার দেখা পায়নি, রাফির মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ওর কিছু হয়নি তো? ওর শরীর ঠিক আছে তো? এমন হাজারো প্রশ্নরা ঘিরে ধরেছে রাফিকে।
এভাবে আরও তিনদিন, চতুর্থ দিনের মাথায় আবারও দেখা হলো তাদের।
কিন্তু রাফি অনুধাবন করলো তার প্রতি মেয়েটির আগের মতো ফিলিংস কাজ করছে না। রাফি একটু কষ্ট নিয়ে কলেজের দিকে এগোয়, এদিকে মেয়ে দুটোও তার অদৃশ্য হওয়ার দৃশ্যটি দেখে নেয় এক নজরে।
রাফি একটু আনমনা হয়ে আছে, হঠাৎ কি এমন হয়ে গেলো। মানুষ পরিবর্তনশীল, তাই বলে কি তিনদিনের মাথায় সব কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে? রাফি বুঝতে পারছে না কিছু!
পরদিন……
[ চলবে ]


0 Comments