এক্সিডেন্টাল লাভ


 এক্সিডেন্টাল লাভ
______
লেখক: আহমেদ আল আমীন

পর্ব -১ম
সকাল দশটা বেজে চলেছে নবাবজাদার ঘুম ভাঙলো, ওপর পাশ থেকে ভেসে আসলো না আম্মু এখন তো হবে দশটা বেজে নয় হলো। তখন মিসেস রেহান মেয়েকে অর্ডার করলেন, যাও নবাবজাদাকে একটু ডেকে দাও!
ভাইয়া,
ভাইয়া,,,
এই ভাইয়া উঠবে!
দাঁড়া না প্লিজ, আরেকটু ঘুমিয়ে নেই!
দেখ্ কয়টা বাজে,,
মা খুব বকছে,,
তোর না কলেজ আছে!
হুম, আছে!
আজ যাবো না।
আমি স্কুলে যাবো, প্লিজ উঠ....
আচ্ছা তুই রেডি হয়ে নেয় আমি উঠলাম, ফ্রেশ হয়ে আসছি।
উনি রাফি (রাফি চৌধুরী), ঘুম থেকে যিনি রাফিকে তুললেন তিনি মুন (নীলা চৌধুরী) বাড়ির সবাই মুন ডেকে অভ্যস্ত।
এতক্ষণে রাফি ফ্রেশ হয়ে বাইরে এলো, নাস্তার টেবিল থেকে একটি আপেল হাতে নিয়ে সামনে পা দিবে এই সময় রাফির বাবার প্রশ্ন কোথায় চললে?
কলেজে,,
মুনকে স্কুলে নামিয়ে যেও!
ওকে বাবা।
মুন রেডি হলে?
হ্যা ভাইয়া এসে গেছি,,,
গুড মর্নিং বাবা,,
গুড মর্নিং মামণি!
তারপর টিফিনের টাকা নিয়ে মুন আর রাফি বেরিয়ে পড়লো তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে,,
রাফি পেট্রোল পাম্পে এসে বাইকে তেল ভর ছিলো, মুন একটি মেয়েকে দেখিয়ে...
ভাইয়া ওকে চিনিস?
কাকে?
ওই যে ওই যাচ্ছে,,  

না কেন?
যেভাবে তোর দিকে দেখছিলো মনে হলো তোর কত'জনমের চিনা!  
রাফি একটি হাসি দিয়ে মুনের স্কুলের দিকে যায়, মুনকে ঠিক সময়ের আগেই স্কুলে পৌঁছে দিয়েছে যদিও সে কলেজে বিশ মিনিট লেট।
রাফি ফুল স্পিডে কলেজের দিকে এগুচ্ছে, বাইপাসে উঠতেই সামনে একটি বাস এসে পড়লো! রাফি আগপিছ না ভেবেই বাইকটা রোডের আউট সাইডে নামিয়ে নিলো।
মনে করছিলো বিপদটা কেটে গেছে, কিন্তু না রোডের পাশ দিয়ে দুটো মেয়ে হেটে আসছিলো। যা দেখে রাফির অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো, রাফি প্রথমে বাইক থামানোর বৃথা চেষ্টা করলেও পরে গাড়ি এবং মেয়েদের মাঝামাঝি বাইকটা চালিয়ে দেয়।
বাইকটা গাড়ির সাথে লাগেনি, কিন্তু খুব জোরে একটি চিৎকার এসছে! রাফি বাইক থামিয়ে দেখলে একটি মেয়ে কাদায় পড়ে বেঅবস্থা, অন্য মেয়েটি তার দিকে আপত্তিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
রাফি তাদের অবস্থা খারাপ পর্যবেক্ষণ করে এখান থেকে চলে যায় তার কলেজে, কলেজে গিয়ে দেখে আজ প্রথম ক্লাসটা হচ্ছে না, স্যার অসুস্থ! সবাই আড্ডা দিচ্ছে।
নিয়মমাফিক তার বন্দুরা এসে তাকে হাই হ্যালো বলছে, কিন্তু কেউই সন্তুষ্ট জনক কোনো আচরণ তার মধ্যে পাচ্ছে না! রাফির কথা শুনে মনে হয় তার শরীর এখানে কিন্তু মন অন্য কোথাও, তার বন্ধু সোনিয়া প্রশ্ন করেই বসলো ……
কিরে তোর কি হয়েছে, তোর মন কোথায়?
রাফি এবার একটু রহস্য রেখে বললো.
না তেমন কিছু হয়নি, মন বাইপাসে রেখে এসেছি!
তারপর সবাই এসে রাফির কাছে জমায়েত হয়, এবং পুরো ঘটনাটি শুনে, তারপর সোনিয়ার প্রশ্ন ……
মেয়েটি কে নামকি?
রাদিল বলে উঠলো মেয়েটি কোথায় পড়ে রে?
তাজেল বলে ওদের একটু গাড়ি করে দিলি না?
এতক্ষণের মৌনতা ভেঙে অনুশ্রী জিজ্ঞেস করে, রাফি মেয়েটি দেখতে কেমন রে?
এতক্ষণে একটি মনের মতো প্রশ্ন ……
এই বলে রাফি ওই মেয়েটির রূপ বর্ণনা শুরু করলো!
বর্ণনা শুনে অনেকেই হাসাহাসি শুরু করলো,অনুশ্রী বললো যা শুনলাম তাতে মনে হয় তোর জন্য পাক্কা আছে। রাফি তো হেসেই খুন!
এবার রাফির কানে একটি প্রশ্ন ডুকলো ……
পটাতে পারবি তো মেয়েটাকে?
রাফি বুঝলো প্রশ্নটা সোনিয়ার, সে বললো যেভাবে তাকিয়ে ছিলো তাতে মনে হয় পটে গেছে!
এবার সবাই বলে মামা তুই তো ফাস্ট লুকেই ফাটিয়ে দিলি, এবার কি খাওয়াবি বল্ ……
কে খাওয়াবে রাফি? রাফি তোমাদের মার খাওয়াবে মার!
রাফি দেখলো সামনে বায়োলজির স্যার, সবাই একসাথে স্যার কে মর্নিং বললো!
স্যার ক্লাস শুরুর নিউজটা শুনিয়ে ক্লাসে চলে গেলেন, বাকিরাও যারযার গ্রুপ অনুযায়ী ক্লাসে যেতে লাগলো!
রাফিও তার ক্লাসে ডুকে ক্লাস করতে চেষ্টা করলো, কিন্তু খানিকক্ষণ পর রাফি বুঝতে পারলো তার মনটা এখনো বাইপাসে রয়ে গেছে।
তাই সে ক্লাস শেষ হলেই বাইক নিয়ে বাইপাসের ঠিক যায়গায় গিয়ে নামলো যেখানে তার এক্সিডেন্ট হতে যাচ্ছিলো !
সেখানে কিছু দেখতে না পেয়ে সে বাইকে গিয়ে বসলো। তখন সে বুঝতে পারলো কেউ…………
[চলবে ]


Post a Comment

0 Comments